শুক্রবার নদীয়ার তাহেরপুর থেকে চেনা মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন, একযোগে দুই পক্ষকেই কড়া ভাষায় নিশানা করলেন তিনি। সভার শুরুতেই বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, "নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা বৈধ, আর মতুয়া ভাইরা অবৈধ?" নাগরিকত্ব নিয়ে বিজেপি যে ভাঁওতাবাজি করছে, এদিন ফের তা মনে করিয়ে দেন তৃণমূল সেনাপতি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, "কমিশন ব্যস্ত সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে, আর ইডি ব্যস্ত বিরোধীদের দমাতে।" ইডি-সিবিআই নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে তিনি সাফ জানান, ভোট এলেই এজেন্সিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাংলার মানুষ এই ভয় দেখানো রাজনীতি আর মেনে নেবে না।
আরও পড়ুন আইপ্যাক-কাণ্ডে রণক্ষেত্র আদালত: নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলায় থমকে গেল শুনানি, বিশেষ বেঞ্চ চায় ইডি
পাশাপাশি বাংলার উন্নয়নে দিল্লির বঞ্চনা নিয়েও এদিন কড়া বার্তা দেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, "বাংলার উন্নয়নের জন্য দিল্লি যদি টাকা না দেয়, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নিজের ক্ষমতায় বাংলায় উন্নয়ন করবে।" বাংলার মানুষ যে দিল্লির দয়ার ওপর নির্ভর করবে না, সেই আত্মবিশ্বাসই আজ তাহেরপুরের মঞ্চ থেকে ফুটে ওঠে।
সবচেয়ে বড় চমক ছিল সভার শেষে। বৃহস্পতিবার মালদহের সভায় I-PAC-এ ইডি হানা নিয়ে টু শব্দটিও করেননি অভিষেক। যা দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর সেই রহস্যের জট কাটল মতুয়াগড় ঠাকুরনগরে। ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিয়ে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরক হলেন অভিষেক। অবশেষে সেই নীরবতা ভাঙলেন মতুয়াগড় ঠাকুরবাড়িতে পুজো দেওয়ার পর। তিনি দাবি করেন, "বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় SIR প্রকল্পের কাজ করছে আই-প্যাক, আর সেই কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এই হানা দেওয়া হয়েছে।"
একদিকে কেন্দ্রকে নিশানা এবং অন্যদিকে ঠাকুরবাড়িতে ভক্তিভরে প্রণাম সেরে এজেন্সির পর্দাফাঁস, অভিষেকের এই জোড়া রণকৌশল আগামী ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
-দিশা দাস