সর্বশেষ সংবাদ
ভোটের মুখেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! এবার ইডি-র ঘেরাটোপে I-PAC, তল্লাশির মাঝেই সশরীরে হাজির মুখ্যমন্ত্রী, ফিরলেন ফাইল ও হার্ডডিস্ক নিয়ে

ভোটের মুখেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! এবার ইডি-র ঘেরাটোপে I-PAC, তল্লাশির মাঝেই সশরীরে হাজির মুখ্যমন্ত্রী, ফিরলেন ফাইল ও হার্ডডিস্ক নিয়ে

২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের দামামা শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। SIR প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে, এবার অপেক্ষা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার। ঠিক এমন এক চূড়ান্ত মুহূর্তে রাজ্যের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। এবার ইডির নিশানায় শাসকদলের নির্বাচনী উপদেষ্টা সংস্থা I-PAC। 

ফের একবার কেন্দ্রীয় সংস্থার নিশানায় প্রশান্ত কিশোরের হাতে তৈরি এই সংস্থা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে I-PAC -এর কলকাতা অফিসে তল্লাশি শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তবে শুধু অফিস নয়, সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনেও পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। 

 

আরও পড়ুন ভোটার তালিকা বিতর্ক! এবার কমিশনের তলব প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায়কে

 

এই অভিযানের মধ্যেই সবথেকে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান প্রতীক জৈনের বাড়িতে। এর ঠিক পরেই সেখান থেকে তিনি সোজা চলে যান I-PAC -এর সল্টলেকের অফিসে। সেখানে সিআরপিএফ জওয়ানদের বাধা এবং ধস্তাধস্তির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী অফিসের ভেতরে ঢোকেন।

অফিসের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসার সময় দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রয়েছে বেশ কিছু ফাইল এবং একটি নীল রঙের হার্ড ড্রাইভ। ইডি-র তল্লাশি চলাকালীন সেই সমস্ত নথিপত্র নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে এলাকা ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।
এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থা আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইছে। তাঁর দাবি, ইডি আধিকারিকরা নির্বাচনের রণকৌশল, দলের প্রার্থী তালিকা এবং গোপন আইটি ডেটা হাতানোর চেষ্টা করছিল।

যদিও ইডি আধিকারিক সূত্রে খবর, কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তারা খতিয়ে দেখছে, বড় কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারির টাকা এই সংস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহৃত হয়েছে কি না। এ ছাড়া বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন বা 'ফেমা' লঙ্ঘনের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দিল্লির বিশেষ তদন্তকারী দল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২১-এর বিধানসভা থেকে চব্বিশের লোকসভা, তৃণমূলের জয়ের নেপথ্যে এই 'I-PAC'-ই ছিল অন্যতম প্রধান শক্তি। এবার ২৬-এর ভোটের ঠিক আগে এই সংস্থার ওপর কেন্দ্রীয় সংস্থার এই জোরালো চাপ বাংলার নির্বাচনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের দোরগোড়ায় এই সরাসরি সংঘাত আগামী দিনের লড়াইকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

                                                                                                                                                                                                                               -দিশা দাস

পরবর্তী খবর