২০২৫ এ আমরা যেমন অনেককে হারিয়েছি, তেমনই অনেক কিছু পেয়েওছি। আর এই সাল ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসের জন্য একটি বিশেষ মাইলফলক। এ বছর আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরে আমাদের অ্যাথলিটরা, বিশেষ করে পুরুষ অ্যাথলিটরা অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। ক্রিকেটের মাঠ থেকে দাবার বোর্ড, সবখানেই ভারতের জয়জয়কার।
পুরুষ ICC চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়:
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে ভারত। রোহিত শর্মার অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং টপ-অর্ডারে বিরাটের বিধ্বংসী ব্যাটিং ভারতের এই বড় টুর্নামেন্ট জয়ে বিশাল ভূমিকা রেখেছে।
নারী ওডিআই বিশ্বকাপ জয়:
নারী ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওডিআই বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। স্মৃতি মান্ধানা এবং হারমানপ্রীত কৌরের ব্যাটিং দৃঢ়তা ভারতকে বিশ্বসেরার মুকুট এনে দিয়েছে।
দৃষ্টিহীন মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: নেপালকে হারিয়ে ভারত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, যা দৃষ্টিহীন ক্রিকেটে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
আরও পড়ুন রয়ে গেল সৃষ্টি, বিদায় নিলেন স্রষ্টা: ২০২৫-এর বিদায়ী নক্ষত্ররা
আইপিএল ২০২৫ (IPL):
ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় চমক দেখিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা তাদের প্রথম আইপিএল ট্রফি জিতেছে। বিরাট কোহলির অনবদ্য ফর্ম এবং তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
মহিলা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন:
ভারতের ১৯ বছর বয়সী দাবাড়ু দিব্য দেশমুখ ফিডে (FIDE) মহিলা বিশ্বকাপ জিতে গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব অর্জন করেছেন।
তরুণ তুর্কিদের দাপট:
আর প্রজ্ঞানন্দ এবং ডি গুকেশ দাবার বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম সারিতে থেকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভারতের আধিপত্য বজায় রেখেছেন, যা ভারতকে দাবার নতুন পাওয়ার হাউজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জ্যাভলিন থ্রো:
নীরাজ চোপড়া আবারও ডায়মন্ড লিগে স্বর্ণপদক জিতেছেন। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ব্যাডমিন্টন:
লক্ষ্য সেন পুরুষ সিঙ্গলসে অল ইংল্যান্ড ওপেন এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ভারতের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।
প্যারা-আর্চারি:
শীতল দেবী প্যারা-আর্চারি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। হাত না থাকা সত্ত্বেও পা দিয়ে তির ছুড়ে তাঁর এই জয় কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি:
ভারতীয় পুরুষ হকি দল ফাইনালে মালয়েশিয়াকে হারিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিজেদের দখলে রেখেছে।
আইস হকি:
ভারতের নারী আইস হকি দল এশিয়া কাপে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে, যা শীতকালীন ক্রীড়াতে ভারতের জন্য একটি বড় অর্জন।
নারী বিশ্ব বিশ্বকাপ কাবাডি চ্যাম্পিয়ন:
ফাইনালে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চিনকে হারিয়ে ভারত আবারও বিশ্ব কাবাডিতে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছে। ভারতীয় নারীদের ক্ষিপ্রতা এবং দলীয় লড়াই বিশ্বমঞ্চে তেরঙাকে সবার উপরে তুলে ধরেছে।
ক্যারম ওয়ার্ল্ড কাপ:
ম্যালদ্বীপে অনুষ্ঠিত ৭ম ক্যারম ওয়ার্ল্ড কাপে তামিলনাড়ুর এল. কীর্তনা ইতিহাস গড়েছেন। তিনি নারী সিঙ্গলস, ডাবলস এবং টিম ইভেন্টে তিনটি স্বর্ণপদক
সবশেষে বলাই যায় ২০২৫ সালটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই ভারতের মেয়েদের বিশ্বজয়ের বছর। ক্রিকেটের ২২ গজ থেকে শুরু করে ক্যারম হোক বা কাবাডি, প্রতিটি ক্ষেত্রে মেয়েরা প্রমাণ করেছেন যে তাঁরা বিশ্বসেরা। এই অদম্য সাহসী নারীরা কেবল পদক জেতেননি, বরং লক্ষ লক্ষ কিশোরীর মনে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন। নিঃসন্দেহে তাঁদের এই সাফল্য আগামী দিনে ভারতকে বিশ্বের সেরা ক্রীড়া শক্তিতে পরিণত করার পথে প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে।
-দিশা দাস