সর্বশেষ সংবাদ
শাহের দরবারে 'ব্রাত্য' দিলীপ! গোপন বৈঠকে দূরত্ব ঘোচানোর মন্ত্র; ২০২৬-এর আগে বঙ্গ BJP-তে কি তবে বড় রদবদল?

শাহের দরবারে 'ব্রাত্য' দিলীপ! গোপন বৈঠকে দূরত্ব ঘোচানোর মন্ত্র; ২০২৬-এর আগে বঙ্গ BJP-তে কি তবে বড় রদবদল?

বছর শেষে বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্য বিজেপিতে যে ‘দূরত্ব’ এবং ‘অভিমান’-এর মেঘ জমেছিল, তা কাটাতে এবার খোদ ময়দানে নামলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার কলকাতার এক অভিজাত হোটেলে রাজ্য বিজেপির চার ‘মাথা’কে নিয়ে একান্তে বৈঠক করলেন তিনি। আর সেই বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিন দিনের রাজ্য সফরে এসেছেন অমিত শাহ। বুধবার সকালে সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি আলাদা করে বৈঠকে বসেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষের সঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ সময় পর দিলীপ ঘোষকে দলের নীতিনির্ধারণী কোনও বৈঠকে এভাবে সামনের সারিতে দেখা গেল। ২০১৯-এর লোকসভা এবং ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বেই বিজেপি বাংলায় বড় সাফল্য পেয়েছিল, কিন্তু গত কয়েক বছরে তিনি কার্যত কোণঠাসা ছিলেন। এদিনের বৈঠক সেই 'বরফ গলার' স্পষ্ট ইঙ্গিত।

 

আরও পড়ুন বছরের শেষ দিনে কাঁপছে তিলোত্তমা! হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় উত্তরবঙ্গকে পিছনে ফেলল দক্ষিণবঙ্গ!

 

সূত্রের খবর, এদিনের গোপন বৈঠকে অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার সাহায্য করতে আসবে, কিন্তু আসল লড়াইটা লড়তে হবে এই চারজনকেই। বুথ স্তরের কর্মীদের চাঙ্গা করা এবং সংগঠনের নিচুতলায় পৌঁছে যাওয়া, এই দায়িত্ব এখন থেকে এই চার নেতার কাঁধে। বিশেষ করে দিলীপ ঘোষের সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সংযোগকে আগামী নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায় দিল্লি।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসার সময় দিলীপ ঘোষকে বেশ খোশমেজাজে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের ‘ব্রাত্য’ থাকার পর ফের সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, "আমায় ডাকা হয়েছিল শোনার জন্য, তাই এসেছি। বাকি যা বলার দল বলবে।" যদিও তাঁর ছোট উত্তরেই স্পষ্ট যে, ২০২৬-এর ব্লু-প্রিন্টে তাঁকে ফের বড় দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, "আমরা সবাই উজ্জ্বীবিত। ২০২৬-এ আসল পরিবর্তন হবেই।"

সাম্প্রতিক বেশ কিছু উপনির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আশানুরূপ ফল না হওয়ায় দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছিল। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো নেতারাও প্রকাশ্যে দিলীপ ঘোষকে সক্রিয় করার সওয়াল করেছিলেন। নীচুতলার কর্মীদের বড় অংশ মনে করে, দিলীপ ঘোষের সেই আগ্রাসী মেজাজ ছাড়া বাংলায় শাসক দলকে টেক্কা দেওয়া কঠিন। শাহের এই বৈঠক মূলত সেই ক্ষোভ প্রশমিত করে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি বড় প্রচেষ্টা।

বছর শেষে অমিত শাহের এই বৈঠক বঙ্গ বিজেপির অন্দরে নতুন রসায়ন তৈরি করল। এখন দেখার, ‘চার মাথা’র এই যৌথ লড়াই ২০২৬-এর নির্বাচনে মমতার দুর্গে কতটা ফাটল ধরাতে পারে।

                                                                                                                                                                                                                                                -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর