সর্বশেষ সংবাদ
কেন হঠাৎ জায়গা বদল দুর্গা অঙ্গনের? শিলান্যাসের দিনই শুভেন্দুর আক্রমণের জবাব দিলেন মমতা

কেন হঠাৎ জায়গা বদল দুর্গা অঙ্গনের? শিলান্যাসের দিনই শুভেন্দুর আক্রমণের জবাব দিলেন মমতা

দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের পর এবার খাস কলকাতায় তৈরি হচ্ছে বিশালাকার মন্দির 'দুর্গা অঙ্গন'। সোমবার নিউ টাউনে এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৭ একর জমির ওপর নির্মিত এই মন্দিরটি হবে বাংলার সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করা হবে।

প্রথমে ইকো পার্কের উল্টোদিকে একটি জমি চিহ্নিত করা হলেও, শেষ মুহূর্তে জায়গা পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে অ্যাকশন এরিয়া-১-এ নিউ টাউন বাস টার্মিনাসের উল্টোদিকে ১৭.২৮ একর জমিতে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। এই স্থান পরিবর্তনের বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করেছিলেন শাসক দলকে। তিনি দাবি করেছিলেন,  "মুসলিম ভোটব্যাংক আর স্থানীয় জমি মালিকদের চাপেই পিছু হটেছে সরকার!"

 

আরও পড়ুন বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতা সুযোগে সীমান্তে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা! হাদি খুনিদের অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ খুলল মেঘালয় পুলিশ

 

তবে জায়গা পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আগে যে জমি দেখেছিলাম তা ১২ একর ছিল। বড় কিছু করতে গেলে গাড়ি পার্কিং, দোকান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের জন্য বেশি জায়গার প্রয়োজন। এই নতুন জমিটি বিমানবন্দর ও মেন রোডের কাছে হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত এবং সাধারণ মানুষের আসার পক্ষেও সুবিধাজনক।"

উল্লেখ্য, দীঘার জগন্নাথ মন্দির যারা নির্মাণ করেছেন, সেই দক্ষ কারিগররাই এই 'দুর্গা অঙ্গন' তৈরি করবেন। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, মন্দিরের মূল গর্ভগৃহের উচ্চতা হবে ৫৪ মিটার। শাস্ত্রমতে এখানে ১০৮টি দেব-দেবীর মূর্তি এবং ৬৪টি সিংহ মূর্তি থাকবে।

মূল মন্দির ছাড়াও শিব, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিকের জন্য আলাদা মণ্ডপ থাকবে। থাকবে একটি পবিত্র কুণ্ড ও সিংহ দুয়ার। এছাড়াও, পর্যটকদের জন্য তৈরি করা হবে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক মিউজিয়াম।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্প কেবল ধর্মীয় স্থান নয়, বরং বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের একটি 'মিলন ক্ষেত্র'। তাঁর কথায়, "এটি বাংলার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন, বাংলার মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হলো।" এই প্রকল্পের বাণিজ্যিক ও সামাজিক দিকগুলি হলো, প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ পর্যটক আসার সুযোগ পাবেন। মন্দিরের খোলা অংশে একসঙ্গে ১০০০ মানুষ বসতে পারবেন। স্থানীয় শিল্প ও পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও এর মাধ্যমে আয়ের সুযোগ পাবেন। এছাড়াও, এই পুরো প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।

যদিও এই প্রকল্প ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই নির্মাণকে 'অসাংবিধানিক' বলে দাবি করেছেন। তাঁর সাফ কথা, জনগণের করের টাকা দিয়ে কোনো ধর্মীয় স্থান তৈরি করা যায় না। 

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দেওয়া বাংলার দুর্গাপুজোকে সারাবছর তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা যথেষ্ট প্রশংসা পেয়েছে বুদ্ধিজীবী মহলে, তবে রাজনৈতিক খাতে এই বিষয়ে আর কোন জলঘোলা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

                                                                                                                                                                                                                                               -অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর