শীতের সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার তাড়াহুড়ো ছিল সবার । অফিস সেরে ক্লান্ত মানুষগুলো ভেবেছিলেন দ্রুত মেট্রো ধরে পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে। কিন্তু আচমকাই থমকে গেল চাকা। নিস্তব্ধ হয়ে গেল সুড়ঙ্গ। সাধারণ এক শুক্রবারের বিকেল নিমেষেই বদলে গেল আতঙ্কে। কী এমন ঘটল নেতাজি ভবন স্টেশনে, যার জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল তিলোত্তমার লাইফলাইন?
সময়টা তখন বিকেল ৫টা বেজে ৪৪ মিনিট। চলন্ত মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক যাত্রী। উত্তর থেকে দক্ষিণ, মুহূর্তের মধ্যে দুই লাইনেই ব্যাহত হলো পরিষেবা। দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তড়িঘড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় স্টেশনে। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। কিন্তু ততক্ষণে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
আরও পড়ুন: চরম সংকটে পদ্মশিবির! মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই হেভিওয়েট নেতা
মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে 'কাট সেকশন' বা ভেঙে ভেঙে চালানো হচ্ছে মেট্রো। দক্ষিণেশ্বর থেকে ময়দান পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে পরিষেবা। অন্য দিকে, টালিগঞ্জ থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত চলছে মেট্রো। কিন্তু মাঝের অর্থাৎ ময়দান থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত অংশটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ভোগান্তির যেন শেষ নেই। অফিসফেরত যাত্রীরা স্টেশনে এসে শুনছেন মেট্রো বন্ধের খবর। বাধ্য হয়ে সবাই ছুটছেন রাস্তার দিকে। বাসে পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। অ্যাপ-ক্যাব বা ট্যাক্সি পাওয়াও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার কেন এই ব্লু লাইনেই এমন ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। প্রশাসনের শত চেষ্টার পরেও রোখা যাচ্ছে না স্টেশনে আত্মহত্যার এই প্রবণতা।
উদ্ধারকাজ চলছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আর কতদিন এভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হবে তাঁদের? এই অচলাবস্থা কাটিয়ে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।
-জ্যোতি সরকার