বনগাঁয় রাজনৈতিক অন্দরে টানটান উত্তেজনা। কয়েকদিন ধরেই চলছিল অস্বস্তি, ক্ষোভ আর নানা গুঞ্জন। আজ দুপুরে সেই জল্পনারই নাটকীয় সমাধান হল। কিন্তু কী ঘটল ঠিক? কেন হঠাৎ সবাই চমকে উঠলেন?
বুধবার দুপুরে বনগাঁ পুরসভায় আস্থা ভোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। রাজনৈতিক মহল ধরে নিয়েছিল, সেই ভোটেই হয়তো নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। তবে তার আগেই ঘটে গেল বড়সড় পরিবর্তন। অবশেষে পদত্যাগ করলেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। এক্সিকিউটিভ অফিসারকে তিনি ই-মেল করে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান। আর সেই পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর নির্দেশেই তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন।
কিন্তু গল্পটা এত সরল ছিল না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই গোপাল শেঠকে নিয়ে দলের ভিতরে অসন্তোষ বাড়ছিল। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুরসভার পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। সেই অসন্তোষ ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় কাউন্সিলরদের মধ্যেও। অনেকে প্রকাশ্যে গোপালের বিরুদ্ধে সরব হন, দাবি ওঠে তাঁর ইস্তফার।
৬ নভেম্বর দলের তরফে তাঁকে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে সাত দিন সময়ও দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়েও তিনি পদ ছাড়েননি। উল্টে ছুটিতে চলে গিয়েছিলেন।
এরপরে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে। বনগাঁ পুরসভার তিন কাউন্সিলর তাঁর বিরুদ্ধে আনেন আস্থাহীনতার প্রস্তাব। স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ, দলের অভ্যন্তরের অস্বস্তি, আর বিজেপির অভিযোগ, সব মিলিয়ে পুরসভায় কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়।
গোপাল শেঠের দাবি ছিল, পুরসভার অপসারিত ভাইস-চেয়ারম্যান জ্যোৎস্না আঢ্যা তাঁর বিরুদ্ধে আইনি মামলা করেছেন। মামলা যেহেতু বিচারাধীন, তাই তিনি পদত্যাগ করতে পারছেন না। তিনি দলের রাজ্য সভাপতির কাছেও চিঠি লিখে জানতে চান, কেন তাঁকে সরানো হচ্ছে? কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল অন্য পথে। অনাস্থা ভোট হলে যে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম এমনটাই অনুমান করছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
অবশেষে, বুধবার দুপুরে ভোট শুরুর আগেই, গোপাল শেঠ নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন এবং এই ঘোষণার পর জেলা তৃণমূলের অনেকেই প্রকাশ্যে আনন্দও করেন। আতশবাজি ফাটিয়ে উল্লাসের ছবিও দেখা যায়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পদত্যাগকে অনেকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন।
বনগাঁর পুরসভায় এখন প্রশ্ন, চেয়ারম্যান পদে নয়া সমীকরণ কী হবে? আর এই পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে ভোটের আগে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
-জ্যোতি সরকার