শতাব্দীর ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় সাক্ষী থাকল গুজরাতবাসী। আজ এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বিমান ভেঙ্গে পড়ল আহমেদাবাদে। জানা যাচ্ছে, বিমানটিতে উপস্থিত প্রায় ২৪২ জন যাত্রীর কেউই বেঁচে নেই।
বিমানটি ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান। এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই ১৭১ ছিল এই বোয়িং এর প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। লন্ডনগামী এই বিমানটি আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে take off-এর কিছুক্ষণ পরেই দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে মেঘানিনগরে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে বিমানটি আছড়ে পড়ে। সূত্রের খবর, এতে পাঁচজন মেডিক্যাল ছাত্রেরও মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটি খুব নিচু দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। অনেক চেষ্টার পরও হাইট বাড়াতে না পেরে মাটিতে আছড়ে পড়ে, এবং ব্লাস্ট করে। এটি লং ডিস্টেন্সের ফ্লাইট হওয়ায়, এতে প্রচুর জ্বালানি মজুত ছিল, যার বিস্ফোরণের তীব্রতা বেড়ে যায়।
আরও জানা গেছে ,উড্ডয়নের পরপরই পাইলট প্রায় তিনবার'(Mayday) কল করতে থাকেন। কিন্তু এরপর আর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের সাথে কোনো যোগাযোগ করা যায়না। বিমানটি মাত্র ৮২৫ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আছড়ে পড়ে। এই ঘটনায়, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) জানিয়েছে, AI ১৭১ বিমানের ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়ালের ৮,২০০ ঘণ্টার উড়ানের অভিজ্ঞতা ছিল। এবং তাঁর সঙ্গী, ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্ডারের ১,১০০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা ছিল। উপায় না পেয়ে তাঁরা শেষ চেষ্টার জন্যই 'mayday' কল করেছিলেন।
দুর্ঘটনাগ্রস্থ বিমানটিতে মোট ২৪২ জন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২ জন পাইলট এবং ১০ জন কেবিন ক্রু সদস্য। এবং ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, ১ জন কানাডিয়ান এবং ৭ জন পর্তুগিজ যাত্রী ছিলেন। বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে থাকে। ১০ টি দমকল পৌঁছায় ঘটনাস্থলে। জরুরি কর্মীদের উদ্ধার কাজ করতে দেখা গেছে। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু কিনজারাপু পরিস্থিতি ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। DGCA দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। তাঁরা ফ্লাইটের ডেটা, ভয়েস রেকর্ডিং এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ সংগ্রহ করছেন। এয়ার ইন্ডিয়া যাত্রীদের আত্মীয়দের তথ্য জানানোর জন্য একটি ডেডিকেটেড হেল্পলাইন নম্বর (১৮০০ ৫৬৯১ ৪৪৪) চালু করা হয়েছে।
-দিশা দাস