আজ সকাল থেকেই ব্লু লাইন মেট্রোয় যেন কিছু অস্বাভাবিক চিত্র চোখে পড়েছে। যাত্রীদের মুখে বিরক্তি, স্টেশনগুলোতে অকারণে দীর্ঘ অপেক্ষা, আর মেট্রগুলো চলছে অদ্ভুত ধীরগতিতে। কেউই বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কোথায় সমস্যা, কেন এই দেরি, আর কেন মেট্রো পরিষেবা হঠাৎ এমনভাবে ভেঙে পড়ছে।
শেষমেশ জানা গেল, বরাহনগর এবং নোয়াপাড়ার মাঝের বেশ কয়েকটি জায়গায় সিগন্যালের তার কাটা পড়ে গেছে। আর সেই কারণেই পুরো ব্লু লাইনের পরিষেবা পড়ে গেছে চরম বিপর্যয়ের মুখে। সোমবার রাতে নিয়মিত পরিদর্শনের সময় কর্মীরা প্রথম দেখতে পান যে একাধিক জায়গায় সিগন্যালিং তার নষ্ট, আর তৈরি হয়েছে বড় ধরনের গোলযোগের আশঙ্কা। আজ সকালে অফিস টাইমেই তাই শুরু হয় কাজ, নতুন তার বসানো, সিগন্যাল ঠিক করা, আর সিস্টেমকে ভাঙন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা।
আরও পড়ুন: শীতকে থামিয়ে দিচ্ছে নিম্নচাপ! আকাশের পালা বদলে যাচ্ছে বাংলায়
এদিকে, সেই সময়েই হাজার হাজার নিত্যযাত্রী পড়ে যান চরম দুর্ভোগে। দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামগামী ডাউন লাইনের বেশিরভাগ মেট্রো প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছে। এক অফিসযাত্রী জানান,দক্ষিণেশ্বর থেকে নোয়াপাড়া পৌঁছতে যেখানে লাগে সাত-আট মিনিট, সেখানে আজ লেগেছে প্রায় ৩৮ মিনিট। নোয়াপাড়ার পরেও মেট্রো চলছে মন্থর গতিতে, আর একেকটা মেট্রো ছাড়তে লাগছে ম্যানুয়াল সিগন্যাল। আরও এক যাত্রী জানান, সকালে ডাউন লাইনে ৮টা ৪২ থেকে ৮টা ৫৭ পর্যন্ত মেট্রো দাঁড়িয়ে ছিল দক্ষিণেশ্বর আর বরাহনগরের মাঝেই। তারপর কোনোমতে ঢোকে বরাহনগরে, আর ফের দাঁড়িয়ে পড়ে। ঘোষণায় জানানো হয়, নোয়াপাড়া থেকে সিগন্যাল না পাওয়ায় গাড়ি ছাড়তে দেরি হচ্ছে। এদিকে দমদমে অপেক্ষারত যাত্রীরাও একই বিপত্তির শিকার। একটি মেট্রো দমদমে ঢোকার পর যাত্রীদের নামিয়ে খালি করে দেওয়া হয়, তারপর সেটিকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় শহিদ ক্ষুদিরামের দিকে। যদিও আপ লাইন অর্থাৎ শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দমদম তুলনামূলক স্বাভাবিক গতিতেই পরিষেবা দিয়েছে।
দক্ষিণেশ্বরের মতো ব্যস্ত প্রান্তিক স্টেশনে সকালে ভিড় ছিল অসহ্য। স্টেশনগুলোতে মেট্রো আসছে দেরিতে, ফলে প্ল্যাটফর্মে জমেছে বিশাল ভিড়, আর অনেকে ভিড়ের কারণে কয়েকটি মেট্রো পর্যন্ত ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে পরিষেবা পুরোপুরি বিপর্যস্ত ছিল। এই সময় মেট্রো চালানো হয় সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল সিগন্যালে, আর প্রতিটি স্টেশন যেতে লেগেছে ১৩ থেকে ১৪ মিনিট পর্যন্ত। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিগন্যালিং তার কেটে যাওয়ার কারণে ব্লু লাইনের পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, দক্ষিণেশ্বর ও দমদমের মধ্যে দেরি অবশ্যম্ভাবী। যত দ্রুত সম্ভব নতুন তার বসিয়ে পুরো পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এখন প্রশ্ন একটাই, কীভাবে এতগুলো সিগন্যালের তার কেটে গেল? এটা কি কেবলই দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও কোনও কারণ? তার উত্তরই হয়তো নির্ধারণ করবে আগামী দিনে ব্লু লাইনের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত থাকবে।
-জ্যোতি সরকার