দিল্লির রেড ফোর্টের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের দাপটে দেশ যখন এখনও আতঙ্কগ্রস্ত, এই আবহে একই সপ্তাহে ঘটে গেলো আরও এক বিস্ফোরণ। এবার নওগাম থানার ভেতরেই রাতের অন্ধকারে কেঁপে উঠলো শ্রীনগর।
শুক্রবার গভীর রাতে নওগাম থানায় পরীক্ষাধীন বিস্ফোরক সামগ্রী হঠাৎই ফেটে যায়। দুর্ঘটনায় নিহত হন অন্তত ৯, এবং আহত ৩২। সূত্রের খবর, ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা বিপুল বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছিল এই থানায়। সবটাই হচ্ছিল পুলিশ ও ফরেন্সিক টিমের নজরদারিতে। এত সতর্কতা অবলম্বনের সত্ত্বেও বিপর্যয় রোখা গেলনা।
আরও পড়ুন প্রয়াত অসিত বসুর স্ত্রী অভিনেত্রী ভদ্রা বসু! শোকের ছায়া নাট্যদুনিয়ায়
জানা যাচ্ছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির এক আধিকারিক, ফরেন্সিক ল্যাবের তিন সদস্য, ক্রাইম শাখার দুই কর্মী ও রাজস্ব দফতরের দুই আধিকারিক। আহতদের দ্রুত ৯২ বেস হাসপাতাল এবং এসকে আই এম এস-এ নিয়ে যাওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল নলিন প্রভাত জানান, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল, তাই একটু অসাবধান হতে বিস্ফোরণ ঘটে যায়। এই বিস্ফোরণটি নিছকই দুর্ঘটনা ছাড়া অন্য কিছু নয়।
এই নওগাম থানাই কয়েকদিন আগে জইশ-এ-মহম্মদের পোস্টার চক্র ফাঁস করে। CCTV দেখে প্রথম গ্রেফতার ডাক্তার হয় আদিল আহমদ রাঠার, যার লকার থেকে উদ্ধার হয় অ্যাসল্ট রাইফেল। তাঁর জেরাতেই উঠে আসে ফরিদাবাদের আল-ফলাহ মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার মুজাম্মিল শাকিলের নাম, যার বাড়ি থেকে পুলিশ প্রায় ৩,০০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করে। এরপর ধরা পড়েন ডাক্তার শাহিন সঈদ।
এরই মধ্যে দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ১৩ জনের। তদন্তকারী সংস্থার অনুমান বিপুল রাসায়নিক উদ্ধার হওয়ার পরই অভিযুক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি পালাতে গিয়ে ভুলভাবে আইইডি তৈরি করেছিল, যার ফলেই ঘটে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ।
এই তদন্ত চলাকালেই লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণে মৃত্যু ১৩ জনের। তদন্তকারী সংস্থার অনুমান উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকের চাপেই অভিযুক্তরা আতঙ্কে পালাতে গিয়ে ভুলভাবে আইইডি তৈরি করেছিল, যার ফলেই ঘটে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ।
-দিশা দাস