সর্বশেষ সংবাদ
বিহারে '৩ লক্ষ অতিরিক্ত ভোট' এর রহস্য! গড়মিল নির্বাচন কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তির পরিসংখ্যানে

বিহারে '৩ লক্ষ অতিরিক্ত ভোট' এর রহস্য! গড়মিল নির্বাচন কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তির পরিসংখ্যানে

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যে একদিকে যেমন গেরুয়া শিবির এনডিএ-র (NDA) জয়ধ্বনিতে উৎসবের মেজাজ, তেমনই ফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উঠে এসেছে এক মারাত্মক চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতি। যা গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ক্ষমতাসীন জোটের বিজয়ের বাতাস ভেদ করে এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় ঘুরছে 'ভোটের ধাঁধা'র গুরুতর অভিযোগ। গেরুয়া ঝড়ে এনডিএ-র বিজয় পতাকা, মহাগঠবন্ধন-এর হতাশাজনক ফল বিহারের ভোটযুদ্ধে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA) জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে ফের সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের যৌথ নেতৃত্বাধীন এই জোটের জয়কে রাজ্য জুড়ে অনেকে 'গেরুয়া ঝড়' বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, তরুণ নেতা তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে মহাজোট বা মহাগঠবন্ধন জনসভায় বিপুল সাড়া ফেললেও শেষ পর্যন্ত জনাদেশে প্রত্যাশিত সাফল্য আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধীদের এই হতাশাজনক ফলাফলের মধ্যেও আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছেন তেজস্বী যাদব; তিনি তাঁর নিজের কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মহাগঠবন্ধন-এর মুখরক্ষা করতে পেরেছেন। 

 

আরও পড়ুন রবিবারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! রাজ্যে বাড়বে উষ্ণতা

 

কিন্তু, এই জয়-পরাজয়ের হিসেব কষার মধ্যেই প্রকাশ্যে আসে সেই বিস্ফোরক তথ্য যা গোটা নির্বাচনকে বিতর্কের কেন্দ্রে এনে ফেলেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির তথ্যে একটি সাংঘাতিক ত্রুটি বা অসঙ্গতি দেখা গেছে, যা নিয়ে গোটা দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিহারে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৪২ লক্ষ, অথচ ভোট পড়ার সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ। অর্থাৎ, মোট ভোটদাতার চেয়ে প্রায় ৩ লক্ষ বেশি ভোট পড়েছে বলে কমিশনের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সোজাসুজি গণতন্ত্রের মূল নীতির বিরুদ্ধে একটি অবিশ্বাস্য অসঙ্গতি।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যারা ভোটার তালিকাতেই নেই, সেই অতিরিক্ত ৩ লক্ষ ভোটার কোথা থেকে এলো? এই ঘটনা কি শুধুমাত্র 'তথ্য ছাপার ভুল' নাকি এর পিছনে কোনো বৃহত্তর ভোট জালিয়াতির ইঙ্গিত রয়েছে, সেই প্রশ্ন এখন প্রতিটি রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে।

এই অসঙ্গতির পাশাপাশি ভোট শতাংশের তথ্যও এক বড়সড় বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। কমিশন জানিয়েছে, বিহারে সামগ্রিক ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৬৬ শতাংশ । যদি মোট ভোটার ৭ কোটি ৪২ লক্ষ হয় এবং ভোটদানের হার ৬৬ শতাংশ হয়, তবে মোট ভোটের সংখ্যা হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৪.৯৬ কোটি (৪ কোটি ৯৬ লক্ষ)। কিন্তু কমিশন মোট ভোটের সংখ্যা ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ দেখাচ্ছে, যা ভোটদানের হারকে ১০০ শতাংশের উপরে নিয়ে যায়। এই দু'টি সংখ্যা, অর্থাৎ ৬৬% ভোটদান হার এবং ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ মোট ভোট একত্রে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে না। যদি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ ভোট পড়ে থাকে, তাহলে ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪২ লক্ষের চেয়েও বেশি হওয়া উচিত, যা কার্যত অসম্ভব। 

এই সংখ্যাগত অসঙ্গতি প্রশ্ন তুলেছে, তবে কি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো মৌলিক ভুল হয়েছে, অথবা ফলাফলকে প্রভাবিত করার জন্য সংখ্যাতত্ত্বে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারচুপি করা হয়েছে? মহাগঠবন্ধন শিবির ইতিমধ্যে এই বিষয়ে কমিশনের কাছ থেকে স্বচ্ছতা দাবি করে বিষয়টির উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে। 

এই 'ভোটের ধাঁধা'র সমাধান না হলে বিহারের জনগণের রায় এবং গণতন্ত্রের পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে। সর্বোপরি, এই গুরুতর অসঙ্গতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কী আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়, সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                   -অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর