বিহার বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কেবল জয় নয়, এক ভয়ংকর 'গেরুয়া ঝড়' তুলেছে এনডিএ জোট! নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে জোটটি ২৪৩ আসনের বিধানসভায় ২০০-রও বেশি আসন দখল করে বিপুল ক্ষমতা নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসীন হয়েছে, যা মহাগঠবন্ধনের আরজেডি-কংগ্রেস-বামেদের স্বপ্নকে কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকেই বিজেপির লক্ষ্য এখন সরাসরি বাংলা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং রণহুঙ্কার দিয়ে ঘোষণা করেছেন, "বিহারের পর এবার বাংলার পালা!" তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। এই সুরেই সুর মিলিয়ে বঙ্গ বিজেপির নেতা রাহুল সিনহা এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এই ফল বাংলার বুকে 'চাকরি চোর, নারী আক্রমণকারীদের' হারানো ও ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে।
আরও পড়ুন NDA-এর 'ডাবল সেঞ্চুরি'! পঞ্চমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী-র আসনে নীতিশ, স্বপ্নভঙ্গ রাহুল-তেজস্বীর
তবে, বিজেপি-র এই কটাক্ষকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল ব্যক্তিবর্গ । দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ কড়া পাল্টা জবাবে বলেছেন, "ওটা বিহারের সমীকরণ, বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক নেই!" তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দাবি করেছেন, বিজেপির এই হুমকি অকারণ সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁর মতে, বাংলা হলো উন্নয়ন, ঐক্য ও আত্মসম্মানের দুর্গ, যেখানে "শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা!" তৃণমূল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে একমাত্র ভরসার মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। ফলে বলা যেতে পারে বিহারের এই 'যুদ্ধ জয়' একদিকে যেমন বিজেপিকে আত্মবিশ্বাসের শিখরে তুলেছে, তেমনই অন্যদিকে তৃণমূল তাদের নেত্রীর উপর ভরসা রেখে এই আক্রমণকে রুখে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বিহারের জয় যে বাংলার আসন্ন নির্বাচনে দু'পক্ষের মধ্যে এক তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের পটভূমি তৈরি করল, তা স্পষ্ট। সবার নজর এখন ২৬-এর বাংলার নির্বাচনের দিকে।
-অঙ্কিতা পাল