সর্বশেষ সংবাদ
উমরই দিল্লি বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড! DNA রিপোর্টে মিলল প্রমাণ

উমরই দিল্লি বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড! DNA রিপোর্টে মিলল প্রমাণ

রাজধানীর বুক কাঁপিয়ে দেওয়া সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ লালকেল্লার অদূরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন আর ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল গোটা এলাকা। ছিন্নভিন্ন এক সাদা রঙের গাড়ি, পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দেহাংশ কে ছিলেন সেই চালক? এই প্রশ্ন ঘুরছিল তদন্তকারীদের মাথায়। কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষার পর অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সেই অজানা উত্তর। রহস্যের পর্দা উঠল, সামনে এল এক চমকপ্রদ সত্যি।

তদন্তে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই i-20 গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন চিকিৎসক উমর উন-নবি। গাড়িতে পাওয়া দেহাংশের সঙ্গে তাঁর মা ও ভাইয়ের ডিএনএ ১০০ শতাংশ মিলে গেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।  সূত্রের দাবি, প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন, আহত ২৭ জনের বেশি। ২২টি গাড়ি পুড়ে যায়, আশেপাশের বাড়ি ও দোকানের কাচ ভেঙে পড়ে।

DNA পরীক্ষার জন্য জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা থেকে আনা হয়েছিল উমরের মা শামিমা বেগমের নমুনা। সেটির সঙ্গে বিস্ফোরণস্থল থেকে পাওয়া দাঁত ও হাড়ের টুকরো মিলে যাওয়ার পরই নিশ্চিত হয় পরিচয়। বিস্ফোরণের পরেই তাঁর মা ও দুই ভাইকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল।

 

আরও পড়ুন চন্দ্রযান-৩ কেও ছাড়াল ফাইল বিক্রির অঙ্ক! সরকারি দফতর পরিষ্কারে কেন্দ্রের আয় রেকর্ড ৮০০ কোটি

 

তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ-এর একটি বিশেষ শাখার সদস্য ছিলেন উমর। এই মডিউলের বেশিরভাগ সদস্যই চিকিৎসক, যারা পেশার আড়ালে বিস্ফোরক তৈরির উপাদান জোগাড় করত। ফরিদাবাদে ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর থেকেই উমর গা ঢাকা দেন এবং নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

উমর ২৮ অক্টোবর ফরিদাবাদের এক গাড়ি বিক্রেতার কাছ থেকে হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি কিনেছিলেন। পরে সেটি দেখা যায় আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের পার্কিংয়ে, যেখানে তিনি কর্মরত ছিলেন। বিস্ফোরণের দিন দুপুরে গাড়িটি কনট প্লেস ও ময়ূর বিহার হয়ে সুনহেরি মসজিদে যায়, সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্ক ছিল। পরে লালকেল্লার দিকে রওনা দেয় উমর এবং যানজটের মধ্যেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

ঘটনার তদন্তভার এখন এনআইএ-র হাতে। ইতিমধ্যেই আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন চিকিৎসক,শাহীন সিদ্দিকী, মুজাম্মিল আহমদ এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মহম্মদ আরিফ কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই দলটি আগামী ৬ ডিসেম্বর দিল্লির ছয়টি স্থানে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছিল।

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মিলে গেছে, মূলচক্রীও চিহ্নিত। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের পেছনে থাকা পুরো ‘ডক্টরস মডিউল’-এর নির্দেশদাতা কে? আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র কি এখনও লুকিয়ে আছে রাজধানীর অন্ধকারে?

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                               -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর